রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর ঘিরে আলোচনায় এসেছে তাঁর বিশেষায়িত প্রেসিডেন্ট বিমান। ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত এই বিমানে রয়েছে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি, উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও নিরাপদ যোগাযোগের সুবিধা। এমনকি বিমানটি জরুরি পরিস্থিতিতে মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারে।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন পুতিন। তাঁর বহরে থাকা দু'টি একই ধরনের ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানের একটি মূল বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। দু'টি বিমান একসঙ্গে উড়ানো হয়, যাতে কোনটিতে রুশ প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, তা সহজে শনাক্ত করা না যায়।

আইএল-৯৬-৩০০পিইউ রাশিয়া'র তৈরি আইএল-৯৬ বিমানের বিশেষভাবে পরিবর্তিত সংস্করণ। ১৯৮০-এর দশকে ইলিউশিন ডিজাইন ব্যুরো এই মডেল তৈরি করে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য ব্যবহৃত বিমানটি দেশটির স্পেশাল ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের অধীনে পরিচালিত হয়।

৪ ইঞ্জিনের এই বিমান একবার জ্বালানি নিয়ে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার উড়তে পারে। এর দৈর্ঘ্য ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার।

বিমানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা। এতে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্রযুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে আকাশে থাকা অবস্থায় সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগ করা যায়। রয়েছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সুরক্ষিত রেডিও ও ডেটা চ্যানেলও।

এ ছাড়া বিমানটিতে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সংকটকালেও রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপদ যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য বিমানটি ব্যবহার করা যায়।

নিরাপত্তার পাশাপাশি বিলাসিতার ব্যবস্থাও রয়েছে এতে। পুতিনের জন্য আলাদা স্যুটে শয়নকক্ষ, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর ও খাবারের জায়গা রয়েছে। বড় একটি সম্মেলনকক্ষও রয়েছে, যেখানে বৈঠক করা যায়।

বিমানের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা হয়েছে দামি কাঠের কাজ, চামড়ার আসবাব ও সোনালি রঙের বিভিন্ন ফিটিংস। সব মিলিয়ে পুতিনের এই বিশেষ বিমানটি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ভ্রমণ, নিরাপদ যোগাযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কমান্ড পরিচালনার জন্য তৈরি একটি উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার।